টেক নিউজসর্বশেষ

AI-এর ভয়ঙ্কর রূপ

Pickynews24

এতকাল ভুয়া ছবি সৃষ্টি করতে  অনেক সময়, অর্থ ও দক্ষতার প্রয়োজন হতো। কিন্তু এখন এআই নিমেষের মধ্যে আপত্তিকর ছবি সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে। এই প্রযুক্তির বিকাশে বাধা সৃষ্টি না করে নৈতিকতার বেড়া লাগানো বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিনামূল্যের এক AI সফ্টওয়্যার মানুষের শরীরের বিবর্তনের এক হিসেব সৃষ্টি করেছে। একাধিক মডেলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পেয়ে সেই সফ্টওয়্যার চোখ বা নাকের বর্ণনা দিতে পারে। এ ভাবে মানুষের শরীরের গঠন স্পষ্ট হয়ে যায়।

ইউজারের পছন্দ অনুযায়ী সফটওয়্যারে সৃষ্টি করা ছবি বা ভিডিও ক্লিপের রূপ দেওয়া সম্ভব। আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো সীমা নেই। গণিতজ্ঞ ও এআই বিশেষজ্ঞ হিসেবেব ক্রিস্টিয়ান বেনেফেল্ড মনে করেন, ‘কোনো এআই-এর অবশ্যই নৈতিকতাবোধ থাকে না। ঠিক সে কারণেই যে কোনো জিনিস একে অপরের সঙ্গে একত্রিত করা যায়।’ ফলে এআই ব্যবহার করে যৌন উদ্দিপক ও যৌনতাপূর্ণ ছবি সৃষ্টি করা সম্ভব। ট্রেনিং মডিউলগুলির উপর চোখ বোলালেই এমন ছবির চাহিদা টের পাওয়া যায়। চ্যাট-জিপিটি-র উদ্ভাবক ওপেন এআই-এর মতো পরিষেবা সংস্থা ছবি সৃষ্টির ক্ষেত্রে ক্লাউড ব্যবহার করে।

ছবি সৃষ্টির লক্ষ্যে কম্পিউটেশনের কাজ কোনো নিয়ন্ত্রিত সার্ভারে ঘটে। সিস্টেম বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর ছবি সৃষ্টির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু বিনামূল্যের এআই সফ্টওয়্যার ব্যক্তিগত কম্পিউটারে চলে। সেখানে কন্টেন্ট সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনো বাধানিষেধ নেই। অর্থাৎ ক্লাউড সলিউশন কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে।

জার্মান এথিক্স কাউন্সিলের সদস্য ইয়ুডিট সিমোন বলেন, ‘অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু প্রমপ্ট ও নির্দিষ্ট কিছু এনকোয়্যারি আগে থেকেই নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব। যেমন চ্যাট জিপিটির টেক্সটের ক্ষেত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়, এমন সব প্রশ্নের জবাব দিতে পারবো না অথবা এটা খুব বিতর্কিত বিষয়। ছবি সৃষ্টির ক্ষেত্রেও এমন কিছু বিষয়ের কথা ভাবা যেতে পারে। তবে এমন বাধা সৃষ্টি করে নীতিগতভাবে অপব্যবহার বন্ধ করা যাবে বলে আমি মনে করি না। এমন প্রচেষ্টা হয়তো কম রাখা যাবে, কিন্তু তা সত্ত্বেও নতুন প্রমপ্ট বা এনকোয়্যারির ভাষায় রদবদলের মাধ্যমে বিতর্কিত কনটেন্ট ঠিকই সৃষ্টি করা যাবে।’

ট্রেনিং মডেলগুলির মধ্যে প্রকৃত মানুষের মডেলের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। যেমন ক্রিস্টিয়ান বালে নামের এক অভিনেতা। তার মডেলও ডাউনলোড করে নিজের ইচ্ছেমতো তাতে রদবদল করা যায়। এআই-এর মাধ্যমে সৃষ্টি করা ছবি দেখতে প্রায় খাঁটি লাগে। আইনের চোখে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। প্রো. আলেনা বুয়িক্স জানান, ‘বর্তমানেই বেশ কিছু আইন চালু আছে, যেমন ‘অকুপেশনল সেফটি’, যা প্রাসঙ্গিক। অথবা বর্ণবাদ এড়াতে সাহায্য করে, এমন আইন এখনই প্রয়োগ করা সম্ভব। তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত মৌলিক বিধিও তাই। তবে বিকাশের এমন দ্রুত গতির পেছনে ধাওয়া করা বিশাল চ্যালেঞ্জ।’

প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধ চাপানোর সময় আগেই পেরিয়ে গেছে। ইমেজ জেনারেটরগুলি মুক্ত ওপেন সোর্সের ভিত্তির উপর গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে সেগুলির বিকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। সেই টুলের যে কোনো ধরনের ব্যবহারও সম্ভব। এমন বিকাশ গ্রহণযোগ্য সামাজিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব নয়। হস্তক্ষেপের সুযোগও সীমিত।

Related posts

৬ বছর পর ভাই হত্যার প্রতিশোধ নিতে ব্যবসায়ীকে খুন

Samar Khan

আপডেটে মজার মজার ১৭ ফিচার, আইওএস ১৭.২

Rubaiya Tasnim

বাইডেনর চিঠি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে !

Megh Bristy

Leave a Comment