ইসলাম ধর্মবিশ্ব

আল্লাহর ভালোবাসা মুমিনের পরম আরাধ্য।

আল্লাহর ভালোবাসা মুমিনের পরম আরাধ্য। মুমিনের জীবনের সফলতা। আল্লাহর ভালোবাসা পেলে দুনিয়ার জীবন যেমন সুন্দর ও সফল হবে, আখেরাতের জীবনও সুন্দর ও সফল হবে। মানুষের কাছে প্রিয় হওয়া, মানুষের ভালোবাসা পাওয়াও কিছুটা প্রয়োজনীয় দুনিয়ার জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য। রাসুল (সা.) আমাদেরকে আল্লাহ ও তার প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা চাইতে শিখিয়েছেন এভাবে,

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَحُبَّ عَمَلٍ يُقَرِّبُ إِلَى حُبِّكَ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার ভালোবাসা, আপনাকে যারা ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা এবং যে আমল আপনার নিকটবর্তী করে দেয় সে আমলের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি। (তিরমিজি: ৩২৩৫)

আরেকটি হাদিসে রাসুল (সা.) আল্লাহ ও দুনিয়ার মানুষের ভালোবাসা লাভের উপায় বলেছেন। সাহল ইবনে সা’দ সায়েদি বলেন, একবার এক ব্যক্তি নবিজিকে (সা.) বললো, আমাকে এমন কাজের কথা বলুন যা করলে আমাকে আল্লাহ ভালোবাসবেন, মানুষও ভালোবাসবে। রাসুল (সা.) বললেন,

ازْهَدْ ‌فِي ‌الدُّنْيَا ‌يُحِبَّكَ ‌اللَّهُ، وَازْهَدْ فِيمَا فِي أَيْدِي النَّاسِ يُحِبُّكَ النَّاسُ

তুমি দুনিয়াবিমুখ হও, তাহলে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন। আর মানুষের কাছে থাকা সম্পদের ব্যাপারে বিমুখ হও, তাহলে তারাও তোমাকে ভালোবাসবে। (সুনানে ইবনে মাজা: ৪১০২)

১. যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা

ইসলামের পরিভাষায় যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা হলো দুনিয়ার অপ্রয়োজনীয় বিলাস ও সম্পদের মোহ ত্যাগ করা। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুতে সন্তুষ্ট থাকা। দুনিয়ার সম্পদ জমা না করা। রাসুল (সা.) জীবন যাপন করতেন মুসাফিরের মতো। তিনি তার তার সাহাবায়ে কেরামকেও মুসাফিরের মতো জীবন যাপনের ‍উপদেশ দিতেন। ইবনে ওমর বলেন, রাসুল (সা.) একদিন আমার কাঁধ ধরে বললেন,

كن في الدنيا كأنك غريبٌ، أو عابر سبيلٍ
দুনিয়াতে বসবাস করো একজন মুসাফির বা পথিকের মতো। (সহিহ বুখারি: ৬৪১৪)

২. মানুষের সম্পদের ব্যাপারে অনাগ্রহী থাকা

এটাও দুনিয়াবিমুখতার অংশ। মানুষের সম্পদে লোভ করলে মানুষ তা অপছন্দ করে। যে মানুষের সম্পদের ব্যাপারে নির্লোভ থাকে তাকে মানুষ ভালোবাসে।

হাসান বসরি (রহ.) বলেন, তোমরা মানুষের কাছে সম্মানিত থাকবে, মানুষ তোমাদের সম্মান করবে যতোক্ষণ তোমরা তাদের সম্পদের ব্যাপারে আগ্রহী না হবে। মানুষের সম্পদের ব্যাপারে আগ্রহী হলে মানুষ তোমাদের হালকা মনে করবে, তোমাদের কথা অপছন্দ করবে এবং তোমাদের ঘৃণা করবে।

দুনিয়াবিমুখ ও নির্লোভ ব্যক্তিদের মানুষ সম্মান করে, ভালোবাসে ও নেতৃত্বের আসনে বসায়। একবার এক বেদুইন বসরায় গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো, এই শহরের নেতা কে? মানুষ বললো, হাসান। সে বললো, তিনি কীভাবে নেতা হলেন? তারা বললো, মানুষ তার ইলমের মুখাপেক্ষী, তিনি তাদের সম্পদের মুখাপেক্ষী নন।

 

Related posts

জেনে নিন নবী-রাসূলদের পেশা কি ছিল

Asma Akter

কভার জাতীয় বাংলাদেশ বিশ্ব সব খবর বাংলাদেশের উন্নয়ন সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল: প্রধানমন্ত্রী

admin

বনু আজদ গোত্রের এক ব্যক্তির জাকাত উশুলের ঘটনা

Asma Akter

Leave a Comment