অর্থনীতিবাংলাদেশেসর্বশেষ

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র তিস্তার চরে

Pickynews24

প্রতিদিন গড়ে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় ও এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘তিস্তা সোলার লিমিটেড’ থেকে। এতে বদলে যেতে পারে গোটা উত্তরবঙ্গের চিত্র বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন এবং কুরিগ্রামের কোল ঘেষা চর খোর্দা গ্রামের বিস্তীর্ণ বালু চরের ৬০০ একর জমির ওপর স্থাপন করা হয়েছে এই পাওয়ার প্লান্ট। মানব বসতি থেকে দূরে জমি যা কোনো কাজে লাগানো যেতো না। সেই জমি এখন আলোর উৎস হয়েছে গোটা দেশের জন্য।Pickynews24

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধু ধু বালুচরে বসানো রয়েছে সোলার প্যানেলগুলো। সারি সারি করে বসানোর কারণে দূর থেকে কালো রঙের সৌর প্যানেলগুলো অনেকটাই সাদা বালুচরে কালো রঙের গালিচার মতো মনে হয়। কেন্দ্রটির নিরাপত্তার জন্য চারিদিকে উঁচু করে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এর ভেতরই গোটা সোলার প্যানেলটির কার্যক্রম চলছে।

 

তিস্তা সোলার লিমিটেড কতৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা ও চরখোর্দ্দা গ্রামে ২০১৭ সালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়। পর্যায়ক্রমে ‘তিস্তা সোলার লিমিটেড’ নামে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গড়ে তোলে বেক্সিমকো গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো পাওয়ার লিমিটেড। নির্মাণ কাজ শেষ হলে চলতি বছরের ২ আগস্ট রংপুর সফরে এসে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার। গত বছরের ডিসেম্বর এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত দৈনিক ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হচ্ছে রংপুর গ্রিড হয়ে জাতীয় গ্রিডে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১৩ দশমিক ৯৩ টাকা চুক্তি মূল্যে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে।

তিস্তা সোলার লিমিটেডের সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা (জমি অধিগ্রহণ) সুজা আহমেদ বলেন, ‘৮৫টি মাউন্টিং পাইলসের ওপর বসানো হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সৌর প্যানেল। এসব সৌর প্যানেল থেকে ১২০টি ইনভার্টারের মাধ্যমে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এজন্য ২৮টি বক্স ট্রান্সমিশনে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে সাবস্টেশনসহ ১৩২ কেভিএ ট্রান্সমিশন টাওয়ার নির্মাণ এবং জাতীয় গ্রিডে সংযুক্তির জন্য তিস্তা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে রংপুর পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে ১২২টি টাওয়ারের ৩৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার লম্বা সঞ্চালন লাইন। এ লাইনের মাধ্যমেই সুন্দরগঞ্জের তিস্তাপাড়ের কেন্দ্রটি থেকে রংপুর গ্রিড সাবস্টেশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব আরও সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন করতে পারলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। আমাদের এ উদ্যেগ কর্ম সহায়ক পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে।’

Related posts

শিশুর আকিকার দেওয়ার বিধান

Asma Akter

চাপে আছেন জো বাইডেন

Samar Khan

চালের দাম বাড়ালে মিলের লাইসেন্স বাতিল বললেন খাদ্যমন্ত্রী

Megh Bristy

Leave a Comment