কৃষিস্বাস্থ্য

শিশুর জন্য দুধ-‘সাবুদানা’খুবই পুষ্টিকর খাদ্য, এটি শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার।

‘সাবুদানা’ বা ‘সাগু’ পরিচিত একটি খাদ্য উপাদান। এটি সহজপাচ্য শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার। শিশুর জন্য দুধ-সাবু খুবই পুষ্টিকর খাদ্য। প্রাচীনকালে রোগী বা শিশুর খাবারের তালিকায় থাকলেও বর্তমানে এতে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে এই সাবুদানা। কিন্তু কোথা থেকে আসে এই সাবুদানা বা সাগু। এটি কি কোনো গাছে ধরে? নাকি হাতে বা মেশিনে তৈরি করা হয়? আসুন আজ জেনে নিই সাবুদানার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে-

সাবুদানা কী?
এক প্রকার পাম গাছ থেকে সাবুদানা উৎপাদিত হয়। যার বৈজ্ঞানিক নাম ‘মেট্রোক্সিলোন সাগু’। এর ‘মেট্রোক্সিলোন’ শব্দটি গ্রিক ‘মেট্রো’ থেকে এসেছে। যার অর্থ ‘গাছের নরম অন্তসার’। আর ‘এক্সিলোন’ শব্দটি ‘কাঠ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকৃত পাম বলতে এই সাবুর গাছকেই বোঝায়। এটি এরিকাসি পরিবারের একটি উদ্ভিদ। লম্বায় ৭-১৭ মিটার পর্যন্ত হয়। কখনো কখনো ২৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতি গাছে ২০-২৫টির মতো পাতা হয়। এটি একটি ওষুধি গাছ। এতে একবারই ফুল ফোটে এবং ফল ধরার পর গাছ মারা যায়।

আকার
সাবু হলো স্টার্চে ভরপুর একটি খাদ্য। স্টার্চের অণুগুলো অত্যন্ত জটিল বন্ধনীতে বাঁধা থাকে। যা আমাদের পাচনতন্ত্র হজম করতে পারে না। কিন্তু জিলেটিনাইজেশন সেই বন্ধনীকে শিথিল করে সাবুকে সহজপাচ্য করে তোলে। ফলে এটি দেখতে ছোট ছোট সাদা দানাদার আকারের মুক্ত দানার মতো। সাবুদানাকে ইংরেজিতে ‘সাগু পার্ল’ বলা হয়ে থাকে।

উৎপত্তি
সাবুদানা পাওয়া যায় পাম গাছের কাণ্ডের ভেতরে। তবে গোল দানাদার আকারে নয়। ৭-১৫ বছর বয়সে এ গাছে ফুল ধরার সময় হয়। তখন গাছ কেটে এর কাণ্ডকে চিঁড়ে ফেলা হয়। এরপর কাণ্ডের ভেতরের নরম ‘পিথ’কে ধারালো যন্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আলাদা করা হয়। একে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর ভেতরের স্টার্চ পানির নিচে জমা হয়। পানি থেকে আলাদা করে সাদা রঙের স্টার্চকে শুকানো হয়। শুকিয়ে গেলে এটাকে সাবুর ময়দা বলা হয়।

প্রজাতি
সাবু গাছের মোটামুটি তিনটি প্রজাতি প্রধান। যেমন- মেট্রোক্সিলোন সাগু, সাইকাস রেভোল্যুটা বা কিং সাগু বা সাগু পাম এবং সাইকাস রামফি বা কুইন সাগু।

উপযোগিতা
সাবুর ময়দা খাওয়া যায়। তবে এ ময়দা সাধারণত আমরা খাই না। আমরা যে সাবুদানা খাই, তা মেশিনের সাহায্যে ময়দা থেকে ছোট ছোট দানা আকারে তৈরি করা হয়। একটি পূর্ণ গাছ থেকে ১৪০-৩৫০ কেজি পর্যন্ত সাবু পাওয়া যায়। আজকাল সাবু দিয়ে নানা ধরনের ফালুদা, পায়েস, সুজি, হালুয়া ছাড়াও আলু ও অন্য সবজির সঙ্গে পানিতে ভেজানো সাবুদানা দিয়ে চপ, বড়া তৈরি করা হয়।

উৎপাদন
সাবুদানা প্রধানত উৎপাদিত হয় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ ও ভারতে। তবে চীনারা এখন সাগু ময়দা আমদানি করে নানা রঙের ও আকারের সাবু তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে। সাবু গাছের ছড়িয়ে পড়া পাতার কেন্দ্রে সাবুর ‘কোন’ হয়। সে কোন সম্পূর্ণ পেকে গেলে গাছ মরে যায়। তাই কোন হওয়ার আগেই আগা কেটে কাণ্ড চিঁড়ে ফ্লোয়েম কলার সিভনলের নির্যাস বের করে নেওয়া হয়। তা পানি দিয়ে ফোটালে আঠালো লেই বেরিয়ে আসে। বাজারে যে দানার মতো সাবু কিনি, তা ওই লেই থেকে তৈরি করা হয়। এ পদ্ধতিকে বলা হয় জিলেটিনাইজেশন।

উপকারিতা
এটি সহজেই হজম হয়। শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। পেশী সংকোচনে সহায়তা করে। পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। দেহে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পেতে সহায়তা করে। হাড় মজবুত করে। এতে চর্বি খুবই কম থাকায় হার্টের রোগীদের জন্য ভালো একটি খাবার।

খাওয়ার নিয়ম
বাজারের সাবুদানা আমরা পানিতে ভিজিয়ে খাই। রোগীকে দেওয়ার সময় পানি বা দুধ দিয়ে ফোটানো হয়। তাতে হাইড্রোজেন বন্ডের শূন্যস্থানে পানি প্রবেশ করে সাবুকে আরও সহজপাচ্য করে তোলে।

Related posts

পাটপণ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব

Asma Akter

যে কাজ ভুলেও করবেন না,পেট ভরে খাওয়ার পর

Asma Akter

যাদের মশা বেশি কামড়ায়

Asma Akter

Leave a Comment