বিশেষ সংবাদ

ঘরের ঝুলন্ত শোভা লিপস্টিক ফুল

লিপস্টিক। মেয়েদের প্রসাধনী! আসলে তা নয়। এটি একটি বিদেশী ফুল। বেশ মজার নাম। এক ধরনের ঝুলন্ত ফুল। বাংলাদেশেও চারা বিক্রি হচ্ছে। নগর জীবনে নতুন অতিথি হয়ে এসে অনেকের ঘরে শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে। ঝুলে থাকছে ঘরের বিভিন্ন স্থানে। মেয়েরা টিউব থেকে যেভাবে লিপস্টিক বের করে এই ফুলও তেমনি কান্ড থেকে শাখা হয়ে তারপর ফুল। লিপস্টিকের মতো এই ফুল অনেক রঙের- লাল, গোলাপি, কমলা, বেগুনি লাল ও ময়ূরপঙ্খী রঙের। দেশে অনেক বিদেশী ফুল ফোটে। পরিচিতি মেলে না। নাম না জানা বনফুলের পরিচয়েই স্থায়ী হয়। লিপস্টিক নামের এই ফুলও হয়তো বনফুলের মধ্যে ছিল। কেউ খোঁজ নেয়নি। যখন খোঁজ মিলল তখন তা হয়ে গেল বিদেশী ফুল। ঠাঁই পেল বিলাস নগরীর বহুতল ভবনে।

বছরের বেশিরভাগ সময়ই এই ফুল ফোটে। ফোটার পর এর স্থায়িত্ব বেশি হয় না। তবে পুনরায় তাড়াতাড়ি ফোটে। যে কারণে ভরবছর ঘরে এই ফুল ঝুলিয়ে রাখা যায়। নগরীর বহুতল ভবনে ব্যালকনিতে এই ফুল সৌন্দর্য্য এনে দেয়। হালে রুফ গার্ডেনেও (ছাদ বাগান) এই ফুল ফুটছে। তবে তা ঝুলিয়ে রাখতে হয়। পটে জলের ওপর ভাসিয়ে রাখা যায়। অনেকে এই ফুল অর্কিড ফুলের মতো ঘরের  ভেতরে পানির ছোট পাত্রে (পট) ভাসিয়ে রাখে। এই ফুলের পাপড়ি হালকা। প্রথমে মাইকের মতো হয়। এরপর বিছিয়ে যায়। তারপর কিছুটা লম্বা হয়।

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বগুড়ার মহাস্থানগড়ের সবুজ নার্সারি কর্তৃপক্ষ জানালেন, বেশ কৌতূহল ছিল ফুলের নাম লিপস্টিক শুনে। এই নার্সারির স্বত্বাধিকারী প্রয়াত আব্দুল মান্নান বিদেশ থেকে এই ফুলের চারা এনে রিপ্রোডাক্ট করেছেন। অনেকেই টবে ফোটানোর জন্য এই চারা চায়। তবে তাদের বলা হয়- এই ফুলকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘হ্যাংগিং ফ্লাওয়ার’। অর্থাৎ ঝুলন্ত ফুল। কেউ সহজে না বুঝলে তাদের এভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়- গ্রামের বাড়ি ঘরে যে ভাবে ছিকা (রশি দিয়ে ঝুলানো এক ধরনের মাটির পাত্র) ঝুলে থাকে এই ফুল গাছও তেমনি জানালার ধারে ঘরের টবেতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। পরিচর্যা করতে হবে ঝুলন্ত অবস্থাতেই। তারপর ধীরে ধীরে বিছিয়ে গেলে নির্দিষ্ট শাখা প্রশাখা রেখে ছেঁটে ফেলতে হবে। কেউ যদি মনে করে, ঘরের অনেকটা জায়গাজুড়ে এই ফুল বিছিয়ে রাখবে তাও করতে পারে। তবে এ জন্য বড় ঘরের দরকার হবে। জানালার ধারে এই ফুল গাছ ঝুলিয়ে রাখলে এবং পরিমিত আলোবাতাস পেলে অনেকটা সময় থাকে। দীর্ঘ সময় রাখার জন্য অধিক পরিচর্যাও করতে হয়।

লিপস্টিক ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম ‘এসকাইনানথাস রেডিকান’। পশ্চিমের ও ইউরোপের দেশগুলো থেকে লিপস্টিক ফুল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে আসে গত শতকের মধ্যভাগে। ওই শতকের নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে মালয়েশিয়ায় অর্কিড ফুলকে ওয়েলকাম ফ্লাওয়ার (স্বাগত জানাবার ফুল) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর লিপস্টিক ফুলকে ঘরের ও অফিসের সৌন্দর্য্যরে ঝুলন্ত ফুল হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। তখনই বলা হয় এই ফুল এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। আরেক সূত্র জানায়, বহু আগে ভারতের ব্যাঙ্গালুরু প্রদেশে এই ফুল ফোটে।

ঝুলন্ত টবে কম আর্দ্রতার (কিছুটা নরম ভেজা) মাটিতে এই ফুলর চারা রোপণ করতে হয়। ঘরের জানালার ধারে যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো না আসে এমন স্থানে টবটি ছিকার মতো করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। জানালা ও টবের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব থাকতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে ভালো হয়। আর্দ্রতা থাকা দরকার ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ।

ঝুলন্ত এই টবের কাছে কোনো ধরনের ইনডাকশন ওভেন, মাইক্রোওভেন, হিটার জ¦ালানো চলবে না। এমনকি এয়ার কন্ডিশনারের (এয়ার কুলার) কাছেও লিপস্টিক ফুলের টব ঝুলানো যাবে না। বছর কয়েক আগেও দেশে লিপস্টিক ফুলের এতটা কদর ছিল না। এর বড় একটি কারণ এই ফুলের গন্ধ খুব একটা নেই। ঘরে ঝুলে রেখে শোভা বাড়ানোর জন্য এই ফুল আকর্ষণীয়। অনেকে এই ফুলের চারা লাগিয়ে মনে করে মানি প্লান্টের মতো ছড়িয়ে পড়বে। এই ধারণা ভুল। এই ফুল নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ছড়ায়। বেশি বেড়ে গেলে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে। নগরীতে যাদের বাড়িতে বৈদ্যুতিক ঝারবাতি আছে সেখানে রাতে এই ফুল ঝলমল করে উঠে দ্যুতি ছড়ায়।

Related posts

‘ডেটিং অ্যান্ড রিলেশনশিপ’ ভারতে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে

Megh Bristy

গর্ভ ভাড়া দিয়ে মা হওয়াই ‘নেশা’ এই তরুণীর

Megh Bristy

Zomatoতে পৃথিবীর সাইজের নুডুলস অর্ডার

Rubaiya Tasnim

Leave a Comment