বাংলাদেশে

রহিমার নাম হয়ে গেছে ‘ঝালমুড়ি দাদি’

বিদ্যালয়ের সামনে বৃক্ষরাজির শ্যামল-ছায়া। সেখানে একটি টেবিলে সাজানো প্লাস্টিকের পাত্রে মুচমুচে মুড়ি, মসলা ও ডালের ভর্তা। আছে পেঁয়াজ ও মরিচকুচি। এর পাশে একটি বেঞ্চে বসে ঝালমুড়ি খাচ্ছিল তিন শিশুশিক্ষার্থী। কিছুক্ষণ পর সেখানে এসে উপস্থিত এক শিশুশিক্ষার্থী বলে উঠল, ‘আমাকে ১০ টাকার ঝালমুড়ি দাও তো ঝালমুড়ি দাদি।’

এই ‘ঝালমুড়ি দাদি’র নাম রহিমা বেগম। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘি গ্রামের মৃত বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী। ৩১ বছর ধরে উপজেলার নতুন বসতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করে আসছেন। দাদির বয়সী হওয়ায় শিশুশিক্ষার্থীরা তাঁকে ‘ঝালমুড়ি দাদি’ বলে ডাকে।

ঝালমুড়ি বিক্রির এক ফাঁকে আলাপ হয় রহিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাবার অভাবের সংসারে অল্প বয়সে বিয়ে হয় তাঁর। দিনমজুর স্বামীর সংসারে এসেও অভাব পিছু ছাড়েনি। অন্যের জমিতে কাজ করে স্বামী বিল্লালের যা রোজগার হতো, তা দিয়ে টেনেটুনে চলছিল সংসার। এর মধ্যে এক মেয়ে ও এক ছেলের জন্ম হয়। স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঠিকমতো কাজ করতে পারতেন না। পরে রহিমা বেগম ঝালমুড়ি বিক্রির কাজ শুরু করেন।

রহিমা বেগম বলেন, ১৯৯২ সালে এই বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি শুরু করেন তিনি। সেই থেকে এই কাজই করছেন। সপ্তাহে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার—এই পাঁচ দিন বিদ্যালয় খোলা থাকে। সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত সপ্তাহের এই ৫ দিনই তিনি ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। বিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোথাও ঝালমুড়ি বিক্রি করেন না।

৯ বছর আগে রহিমার স্বামী বিল্লাল হোসেন মারা যান। সন্তানদের মধ্যে মেয়ে লাকী আক্তারের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর আগে। ছেলে আবুল কালামের বিয়ে হয়েছে ১০ বছর আগে। ইলেকট্রিক মিস্ত্রি কালামের এক মেয়ে ও এক ছেলে। নাতি-নাতনি ও ছেলের বউকে নিয়ে রহিমার সংসার। রহিমা বললেন, তিনি বাজার থেকে মুড়ি কেনেন। আর বাড়িতে নিজেই মসলা তৈরি করেন। দিনে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার ঝালমুড়ি বিক্রি হয়। এ থেকে দিনে ২০০-২৫০ টাকা আয় হয়। ২০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে নিজেই চাষাবাদ করে এটা-সেটা ফলান তিনি।

শিশুদের সঙ্গে আসা মায়েরাও রহিমার ঝালমুড়ি খেয়ে থাকেন। লাইজু আক্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, তাঁর (রহিমা) বানানো মসলার ঝালমুড়ির স্বাদ ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও বজায় রাখেন তিনি।

সরকারি কোনো সহায়তা পান না বলে জানালেন রহিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘যত দিন সুস্থ আছি, তত দিন ঝালমুড়ি বিক্রি করে যাব। ছোট ছোট শিশুরা সবাই আমারে দাদি কইয়্যা ডাকে। ওদের ঝালমুড়ি খাওয়ানোর মধ্যেই তো আনন্দ!’

Related posts

বিচারকের ওপর জুতা নিক্ষেপকারী নারী জামিনে মুক্তি

Suborna Islam

‘৭ জানুয়ারির পর যা চাইবেন, দেওয়ার চেষ্টা করবো’ : মাশরাফি

Suborna Islam

স্কুলছাত্র ভাতিজাকে নিয়ে ‘প্রেমের টানে’ ঘর ছাড়লেন চাচি

Suborna Islam

Leave a Comment