লাইফ স্টাইল

রমজানে গৃহিণীর ব্যস্ততা

এখন চলছে পবিত্র রমজান মাস। সিয়াম সাধনার এই মাস শুধু ইবাদত বন্দেগিই নয় বরং হরেক রকম বিশেষ কর্মযোগে সকলের ব্যস্ততারও অন্ত থাকে না। যাপিত জীবনে আসে নানামাত্রিক সংযোজন, পরিবর্তন ও পরিমার্জন। খাদ্যাভাসে তো সবচেয়ে বেশি নতুন মাত্রা যোগ হওয়া যেন এক অবধারিত নিরলস সময় ব্যয় করা। সঙ্গত কারণে উঠে আসে পরিবারের কর্ত্রী গৃহিণীদের রমজান মাসের ভিন্ন মাত্রার দিন যাপন করা। যার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় আর এক ধর্মীয় মহিমান্বিত পর্ব শবেবরাতের পর থেকেই।

ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের এই পবিত্র সময়টি তারাবির নামাজের যোগসাজশ সবচেয়ে যেন ইবাদত বন্দেগিতে আরও এক মাত্রা যোগ হওয়া। প্রতিদিনের খাবারের আয়োজনে যে আলাদামাত্রা যোগ হয় সেখানে সময়টাও একটা বড় বিষয় হয়ে যায়। যেমন রমজান মাসের খাবার শুরু করা হয় সেহরির মধ্য দিয়ে। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতার পূর্ব সূচনা হয় মাগরিবের সময়। সুবহে সাদেকের পরে আর কিছু খাওয়াও যায় না। ইফতার মানেই নানা মাত্রিক উৎসব আনন্দের এক অনন্য পর্ব।

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময়টা যেন বহুকাক্সিক্ষত এক পবিত্রতম ছোঁয়া এবং আল্লাহকে স্মরণ করে রোজা খুলে মুখে আহার তোলা তেমন অনুভব অনুভূতিও অবিশ্বাস্য। ইফতারের ব্যাপক আয়োজন সংসারের গৃহিণীর অনন্য কর্মসাধনা সেই বহুকালের চিরস্থায়ী ঐতিহ্য। সময়ই নয় শুধু খাবার পরিবেশনেও থাকে ব্যাপক পরিবর্তন। ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপের মতো মুখরোচক খাবার তৈরিতে গৃহিণীদের যে ব্যস্ততম সময় পার করতে হয় সেখানে কোনো ক্লান্তি কিংবা পরিশ্রমের বালাই থাকে না।

বরং আনন্দ আর অন্তরের সার্বিক স্পর্শকাতর ধর্মীয় অনুভবে মনটা যেন কানায় কানায় ভরে ওঠে। সারাদিনের রোজা রাখার কোনো অবসাদ তো থাকেই না আরও বেশি করে মনোযোগে নিবৃত্ত হন কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত আর সুস্বাদু খাবার নিকটজনের হাতের নাগালে নিয়ে যাওয়া যায়। অন্য সময়ে দুপুরের খাবারের পর গৃহিণীরা আরাম আয়েশে একটু বিশ্রামও নেন। কিন্তু রমজানে তেমন সুযোগ থাকে না। বন্দেগির পবিত্র মাসটিতে যুক্ত হয় ইবাদতেরও নানামাত্রিক আয়োজন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে এশারের পর তারাাবির নামাজ।

২ রাকাতের সুন্নত নামাজ নিয়ে প্রায়ই বিশ রাকাত। তবে কোনো ধরনের আলস্য ভর না করাও পবিত্রতম সময় পার করার নিয়ামক শক্তি। আসলে বলা হচ্ছে গৃহিণীদের ব্যস্ততম সময় কাটানোর ব্যাপক কর্মযোগ। সারাদিন বিশ্রাম নেওয়ারও সময় সুযোগ হয় না। অনেক গৃহিণী নিজের হাতে বাজার করতেও পছন্দ করেন। মনের মতো খাদ্যপণ্যের পসরা সাজিয়ে ইফতার তৈরি করার আলাদা আনন্দযোগ তো বটেই। বিস্তৃত কাজ কর্মের মধ্যে অনেক গৃহিণী ঘরে বসেই কোরআন খতম করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যই অনুভব করেন।

সব গৃহিণীর অনুভব অনুভূতির মধ্যে জড়িয়ে থাকে খাদ্যাভ্যাসের নতুন মাত্রা দেওয়ার মাসটি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার বিশেষ ধর্মীয় অনুভবও। গৃহিণীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা কর্মজীবী। কোনো না কোনো পেশার সঙ্গে জড়িত। সমাজের সমসংখ্যক নারীরা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। উন্নয়নের ব্যাপক কর্মযোগে নারীরা সম্পৃক্ত হতে পেরেছে বলেই সার্বিক সমৃদ্ধি দৃশ্যমান হতে সময় লাগছে না। সুতরাং পেশাজীবী নারীদের তার কাজের জায়গাটিও বিশেষভাবে সফল করেই তুলতে হয়। একজন ব্যস্ততম গৃহিণীকে সার্থক কর্মজীবী হিসেবে তার অবস্থানকে শক্ত করতে হয়।

ফলে দশভুজার মতোই সবদিক সামলিয়ে পবিত্র রমজান মাসটি নারীদের জন্য এক চ্যালেঞ্জিং বিষয় তো বটেই। কোনো কোনো পরিবারে শিশু থাকে যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়। অর্থাৎ তাদের আলাদাভাবে দেখভাল করতে মাকেই সদাসর্বদা সচেতন থাকতে হয়। এছাড়া অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ সদস্য। যারা রমজান মাসটিকে সর্বান্তকরণে ধারণ করেও রোজা রাখতে পারেন না অসুস্থ শরীর কিংবা বয়সের ভারে। তাদের জন্য ভিন্ন খাবারের আলাদা ব্যবস্থা করতেও সফল গৃহকর্ত্রীর জুড়ি নেই।

পারিবারিক সব মানুষের দেখভাল করে গৃহিণীর নিজেকে সময় দেওয়ার কিছুই থাকে কি? তারপরেও কত কিছু আমলে নিতে হয় বলার অপেক্ষা রাখে না। গত বছর থেকে বাঙালির মহাউৎসব পহেলা বৈশাখও তার সামগ্রিক সম্ভারে সংশ্লিষ্টদের মাতিয়ে তুলেছে  রোজায়। এবারও ১ বৈশাখ পড়েছে ভাবগাম্ভীর্যের মাস পবিত্র রমজানে। তারপরেও পান্তা ইলিশ ও বাহারি ভর্তার আয়োজনে কোনো ছাড় দেবেন না বঙ্গ ললনারা।
বাঙালিয়ানার চিরায়ত সম্ভারে আবহমান বাংলার রমণীরা উৎসব আয়োজনে যেন সিদ্ধহস্ত। যেমন ধর্র্মীয় অনুভূতির সঙ্গে শাশ্বত সাংস্কৃতিক দ্বৈত মিলনে নারীদের কর্মনৈপুণ্য যেন যুগ যুগান্তরের সম্পদ। তাই রমজানেও পয়লা বৈশাখ উদ্্যাপনে কোনো ঘাটতির সুযোগই থাকবে না। তবে বর্তমানে বাজার দরে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা। সেখানে গৃহিণীদের উপরই দায় বর্তায় সাংসারিক অনেক কিছুর ওপর কাটছাঁট করা। তেমন অস্থির সময়েও সংসারের কর্ত্রী ধৈর্য আর পরিমিত বোধ নিয়ে যেভাবে সব কিছু সামলিয়ে যান তাও বাঙালি নারীদের এক অনন্য কীর্তিমান দ্যোতনা। এরই মধ্যে জানান দিচ্ছে বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভাগমন। বাড়তি আনন্দ উৎসব তো বটেই। তার সঙ্গে যুক্ত হয় আলাদা মাত্রার ব্যয়ভার।

সব দিকে সুনিপুণভাবে নজরদারি করাও সুগৃহিণীদের সুবিন্যস্ত হাতের ছোঁয়ায় সংশ্লিষ্ট উৎসবটিকে তার যথাযথ মর্যাদায় সকলের হাতে পৌঁছে দেওয়া। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য তারা উৎসাহ আর সাহসিকতার সঙ্গে আয়োজন আর অনুষ্ঠান সফল করতে বিন্দুমাত্র পিছপা হন না। পবিত্র  এই মাসটির আবেদন নানামাত্রিক। সেখানে গৃহিণীদের কর্মতৎপরতার যেন কোনো জুড়িই নেই। নীরবে নিঃশব্দে পারিবারিক আবহে সকলের আকাক্সক্ষা আর প্রত্যাশা মিটিয়ে নিজের জন্য কি কিছু করার কথা ভাবার অবকাশ হয় তাদের? তবে সন্তানরা যখন বড় হতে থাকে তারা কোনো না কোনোভাবে মায়ের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করে এবং যথাসম্ভব মাকে খুশিও করতে চায়। সুতরাং রমজান মাসের পবিত্রতা ১ বৈশাখের সাংস্কৃতিক দ্যোতনা এবং ঈদুল ফিতরের আনন্দ উৎসবে গৃহিণীদের নিরন্তর কর্মযোগ শাশ্বত কালের যেন উপহার।

 

Related posts

আপনি কি মডেল হতে চান?

Suborna Islam

চেহারায় বলিরেখার আবির্ভাব ঘটলে যা করবেন

Asma Akter

বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে এলো শাওমি এসইউ ৭ সিরিজ নিয়ে

Rubaiya Tasnim

Leave a Comment