বিশ্ব

দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা উত্তর কোরিয়ায়

বিশ্ব ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী খাদ্য ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটিতে অনাহারে মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে শনিবার সিএনএন জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয় দেশটিতে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে।

পিটারসন ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিশ্লেষক লুকাস রেঙ্গিফো-কেলার মনে করেন, বাণিজ্য তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র এবং জাতিসংঘ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বলা যায়, উত্তর কোরিয়ার খাদ্য সরবরাহ এখন মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের নিচে নেমে গেছে। এমনকি যদি খাদ্য সমানভাবে বিতরণ করা হলেও অনেকেরই ক্ষুধাজনিত কারণে মৃত্যু হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা রেঙ্গিফো-কেলারের এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সিউল সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, তারা বিশ্বাস করে দক্ষিণ কোরিয়ায় কিছু অঞ্চলে অনাহারে মৃত্যু ঘটছে। কিন্তু তাদের এই বক্তব্য উড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিন্তু জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানায়, কোভিড মহামারির আগেও উত্তর কোরিয়ার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই অপুষ্টিতে ভুগছিল।

এর আগে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে একটি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ফলে আনুমানিক কয়েক লাখ মানুষ মারা যাওয়ার পর থেকে খাদ্য ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক দুর্দশা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সিওলের কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার পরমাণু কর্মসূচিকে স্থিরভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন না, যদি তিনি দেশটিতে খাদ্য সমস্যার মৌলিকভাবে সমাধান করতে ব্যর্থ হন। আর এর ফলে তার জনসমর্থন অনেকটাই কমে যাবে।

উত্তর কোরিয়ার সঠিক অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি জানা বেশ কঠিন। তিন বছরের বেশি সময় ধরে কার্যত বন্ধ রয়েছে সীমানা। তবে পরিস্থিতি কতটা নাজুক হয়ে উঠেছে তার প্রমাণস্বরূপ জানা যায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন চলতি সপ্তাহে চার দিনের ওয়ার্কার্স পার্টির বৈঠক করেছেন। এতে দেশটির কৃষি খাতের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনাসহ কৃষি ও রাজ্যে একটি মৌলিক রূপান্তরের আহ্বান জানানো হয়। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং কৃষিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার ওপর জোর দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা।

ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজির বিশ্লেষক ই জিসুন জানুয়ারিতে এক প্রতিবেদনে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি চীন থেকে প্রচুর পরিমাণে চাল এবং আটা আমদানি করেছে। তবে খাদ্য ঘাটতি থাকলেও দেশটি কখনো যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান থেকে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করে না।

Related posts

চাবেলো: মেক্সিকো টিভি কিংবদন্তি যিনি মেমে হয়েছিলেন

admin

ইস্তেগফার মুমিন ও মুত্তাকীদের এক বিশেষ গুণ

Asma Akter

104 বছর বয়সী শিকাগো মহিলা স্কাইডাইভের জন্য সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি হওয়ার সুযোগে লাফ দিয়েছেন

Megh Bristy

Leave a Comment