শিক্ষা

ঢাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা সাজানো নাটক

বিএনএ, ঢাবি: বিভাগের একজন শিক্ষককে দায়ি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা ধ্রুব। বিষয়টিকে সাজানো নাটক এবং শিক্ষককে অপবাদ দেওয়া উল্লেখ করে প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছেন একই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৫ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী এ মানববন্ধন করেন। এসময় তারা প্রতিবাদের স্বীকৃতিস্বরূপ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন।

আত্মহত্যার চেষ্টাকারী শিক্ষার্থী এস এম এহসান উল্লাহ ওরফে ধ্রুব আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক উপসম্পাদক। ‌‌অন্যদিকে তার অভিযুক্ত তানজীম উদ্দিন খান একই বিভাগের অধ্যাপক।

ঘটনার একদিন পর শিক্ষার্থীরা এটিকে সাজানো নাটক ও শিক্ষককে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র বলে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ওই বিভাগের শিক্ষক সামিয়া জামান বলেন, ‘আমরা যারা এখানে দাঁড়িয়েছি কেউ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দাঁড়াইনি। আমরা একজন যৌন নিপীড়কের অপবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। যৌন নিপীড়ন করে যদি সে রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে মনে করে বেঁচে যাবে, এটা তার সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত।’

একই বিভাগের ৭২তম ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি মোস্তাফা আল হোসাইন আকিল বলেন, ‘আমি নিজেও একজন ছাত্রলীগ কর্মী। তানজীম স্যার ওইদিন ছাত্রলীগ নিয়ে ক্লাসে কিছু বলেনি। একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সেদিন স্যার তার কাছে প্রমাণ চেয়েছিল। কিন্তু সে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্যার তাকে শিক্ষকসুলভ শাসন করেন। আমরা মনে করি একজন শিক্ষকের এ রকম শাসন অস্বাভাবিক নয়। সে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য হাসিল করতে ক্ষমতাসীন ছাত্র-সংগঠনের নাম ব্যবহার করেছে। বিগত কয়েক বছর একসঙ্গে ক্লাস করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, ধ্রুব আত্মহত্যার যে চেষ্টা করেছে এবং তানজীম স্যারকে দোষারোপ করেছে, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য। তানজীম স্যারের বিরুদ্ধে কোনোরকম ষড়যন্ত্র করা হলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।’ মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ধ্রুবর এমন কাজের নিন্দা জানান এবং শিক্ষক লঞ্চমালিক বিচার দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় ফেসবুকে আত্মহত্যার ইঙ্গিতমূলক একটি পোস্ট দেন এস এম এহসান উল্লাহ ওরফে ধ্রুব। পোস্টে অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন তার সঙ্গে ‘অন্যায়’ ও ‘অপমান’ করেছেন বলে উল্লেখ করেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি লেখেন স্যারের জন্য তিনি ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করছেন। এই ঘটনার জন্য স্যারকে দায়ী করেন ধ্রুব। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, ছাত্রলীগ করেন বলে স্যার তার সাথে এই অ‌ন্যায় করেছেন।

এরপর থেকে ধ্রুব নিখোঁজ হয়ে যান। পরে ওইদিন রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের পুকুরপাড় থেকে এহসানকে উদ্ধার করা হয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

বিভাগের একাধিক সূত্র বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ)কে জানান, সহপাঠী এক বান্ধবীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন ধ্রুব। মেয়েটি তাকে প্রত্যাখ্যান করলে বিভিন্ন উপায়ে কথা ছড়িয়ে মেয়েটির চরিত্রহননের চেষ্টা করেন তিনি। অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন তাকে এসব গুজব রটানো থেকে বিরত থাকতে বলেন এবং ক্লাসে শিক্ষাসুলভ শাসন করেন।

তারা জানান, এতে অপমানিত হয়ে ধ্রুব আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন। এবং তানজীম স্যার যেহেতু আওয়ামী কোরামের শিক্ষক নন, তাই তাকে ছাত্রলীগের বিষয় টেনে অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

Related posts

জাবির ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

Rishita Rupa

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কবে

Megh Bristy

নতুন বছরে নতুন বই, নতুন ক্লাস

Megh Bristy

Leave a Comment