ইসলাম ধর্ম

খাদ্যশস্য গুদামজাত ইসলামে নিষিদ্ধ

খাদ্যশস্য গুদামজাত ইসলামে নিষিদ্ধ

খাদ্যশস্য গুদামজাত ইসলামে নিষিদ্ধ

খাদ্যশস্য গুদামজাত ইসলামে নিষিদ্ধ বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে খাদ্য-শস্য মজুত করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। আল্লাহর রাসুল নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

مَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ

যে ব্যক্তি (খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী) মজুত করে সে গুনাহগার। (সহিহ মুসলিম: ১৬০৫)

ফকিহদের মতে এ হাদিসটি এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য হাদিস বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়,

মানুষ অভাব অনটনের শিকার হয় এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যায় -এ রকম মজুতকরণের ক্ষেত্রে।

এ ধরনের মজুতকরণ নাজায়েজ। সরকারের  কর্তব্য এ ধরনের মজুতকরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আর যদি খাদ্যশস্য গুদামজাত বা মজুত করার ব্যপারটি সাধারণ পর্যায়ের হয়,

কোনো শস্য বেশি ফলনের সময় গুদামজাত করে সাধারণভাবে দাম বেড়ে যাওয়ার পর বিক্রি করা হয় এবং সে কারণে বাজারে ওই পণ্যের সংকট সৃষ্টি না হয়,

মানুষ কষ্টে না পড়ে এবং অস্বাভাবিক দাম বেড়ে না যায়, তাহলে তা নাজায়েজ নয়।

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

হালাল বলতে আমরা সাধারণত: যাবতীয় বৈধ পন্থাকেই বুঝি।

যা কল্যানকর ও হিতকর এবং যাবতীয় অবৈধ ও অকল্যাণকর হতে মুক্ত।

ইসলামে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ মানব জাতিকে উপার্জনের জন্যে উৎসাহ দিয়েই ক্ষান্ত হননি;

বরং যাবতীয় বৈধ ও অবৈধ পন্থাও বাতলে দিয়েছেন। অতএব হালাল উপার্জন বলতে বুঝায় উপার্জনের ক্ষেত্রে বৈধ ও শরী‘আত সম্মত পন্থা অবলম্বন।

হালাল উপায়ে জীবিকা উপার্জনের ফলে সমাজ ব্যবস্থায় ধনী দরিদ্রের মাঝে সুষম ভারসাম্য ফিরে আসে;

কৃষক দিন মজুর, ক্রেতা-বিক্রেতা, শ্রমিক-মালিক এবং অধস্তনদের সাথে উর্ধ্বতনদের সুদৃঢ় ও সংগতিপূণ সর্ম্পক তৈরী হয়।

ফলে সকল শ্রেণীর নাগরিকই তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ পায় এবং সমাজ সংসারে নেমে আসে শান্তির সুবাতাস।

মূলত: ইসলাম যে পেশাকে অবৈধ বলে ঘোষনা করেছে সেসব পন্থায় উপার্জন ব্যতীত অন্যান্য পন্থায় উপার্জন করা বৈধ বলে বিবেচিত।

[1] ইসলাম প্রদত্ত সীমারেখা ও মূলনীতি ঠিক রেখে বৈধ যে কোন পণ্যের ব্যবসা করার মাধ্যমে উপার্জনকে ইসলামী শরী‘আত হালাল হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এছাড়া যদি কেউ বৈধ উপায়ে যোগ্যতানুযায়ী চাকুরী করে এবং ঘুষ সহ যাবতীয় অবৈধ লেন-দেন ও অসৎ মানসিকতা থেকে দুরে থাকে তবে সেটাও জীবিকার্জনের হালাল পন্থা হিসেবে সাব্যস্ত হবে।

 

 

Related posts

মশা-মাছির রক্ত পোশাকে লাগলে কি নাপাক হয়?

Asma Akter

নামাজের রাকাত নিয়ে সন্দেহে হলে তার করনীয়

Asma Akter

ইসলামে সালাম অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ আমল।

Asma Akter

Leave a Comment