আন্তর্জাতিকসর্বশেষ

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভিক্ষুর সম্পত্তি সহজেই ৭ কোটি টাকা পার করছে।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভিক্ষুর সম্পত্তি সহজেই ৭ কোটি টাকা পার করছে।

ইলন মাস্ক, বিল গেটস, মুকেশ আম্বানির মতো বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনীদের সাথে সংবাদ শিরোনাম হয়। তাদের সম্পদের পরিমাণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে কার কত সম্পদ রয়েছে, এটি সাধারণ মাধ্যমে চর্চার মূল বিষয়। এর পাশাপাশি, হতদরিদ্রদের কথা নিয়ে কেউ কথা বলতে পারে না।

দুমুঠো ভাতের অভাবে একেকজন ভিক্ষাবৃত্তি নেয়। তবে, একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা হলো, মুম্বাইয়ের একজন ভারতীয় জৈন এখন বিশ্বের শীর্ষ ভিক্ষুক হিসেবে উত্তরণ করছেন। এই ভিক্ষুর নিট সম্পদ সাড়া সাত কোটি রুপি। যেহেতু এখন তার জীবনধারার অংশ হিসেবে ভিক্ষা তার জীবনে একটি লোভনীয় পেশা হয়ে উঠেছে, সেই দিকে তার পরিবারও অনুভূতি রাখতে পারে না।

ভারত জৈনের বয়স এখন ৫৪ বছর, এবং মুম্বাইতে বসবাস করছেন। সারা ৪০ বছর ধরে তিনি ভিক্ষা নেয়। শিবাজি মহারাজ টার্মিনাল রেলওয়ে স্টেশন এবং আজাদ মৈদানে এমন অভিজাত ও প্রসিদ্ধ স্থানগুলিতে তিনি ভিক্ষা করেন। প্রতিদিনে তার আয় হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার রুপি, এবং তিনি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ভিক্ষা করেন। হাপ্তাভরে তার কোনো ব্রেক বা ছুটি নেই। হয়তো তিনি জীর্ণ-শীর্ণ হতে পারেন, তবে ভারত জৈন তাকে একজন ধনী ভিক্ষুক হিসেবে মন্মানা করেন। মুম্বাইতে তার একটি ২BHK ফ্ল্যাট রয়েছে, যা মূল্য ২০ লাখ রুপি। এখানে তার স্ত্রী, দুই ছেলে, ভাই এবং পিতার সাথে বাস। তাদের সকলের প্রতি ভারত জৈন একটি অতুলনীয় উদার দৃষ্টিকোণ রাখেন। তার সকল সদস্যের একটি জনসংখ্যা আছে একটি স্টেশনারি দোকান চালানোর জন্য, এবং তিনি পারেলে একটি ‘2BHK’ ফ্ল্যাট তাদের জন্য কিনে দিয়েছেন। এখানে তিনি মাসিক ভাড়া প্রদান করেন মূল্য ৩০,০০০ রুপি এবং এ দিনে তার আয় হচ্ছে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ রুপি।

ভারত জৈনের ভিক্ষাবৃত্তি সম্পর্কে তার পরিবারের সদস্যরা অনেকটা অসন্তুষ্ট। এই ভিক্ষুকের জন্য তাদের কখনই ভিক্ষা বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়নি। এমনকি যদি কেউ এমন পরামর্শ দেয়, তারা সেই উপেক্ষা করে এবং ভিক্ষাবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারত জৈন বলছেন, তার জন্য ভিক্ষা একটি উল্লাসময় পেশা। এই জীবনযাত্রা তিনি বদলাতে চান না। এক সময় দারিদ্র্য একটি ভিক্ষার লক্ষণ ছিল, তবে এখন এটি কিছু মানুষের কাছে একটি আকর্ষণীয় পেশা হয়ে উঠেছে। এটি তাদের জন্য একটি লাভজনক পেশা। এই খবরটি অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে মাত্র একজন জৈন ভিক্ষু। তার বাইরে এই অবস্থানে অনেকগুলি ভিক্ষু আছেন, যারা ভিক্ষা করে লাখ লাখ রুপি সম্পদ অর্জন করেছেন। এই মানুষগুলির মধ্যে কিছু সম্ভাজি হলেন, একজন নেতিবাচক কলে। তার নিট সম্পদ সাত লাখ কোটি রুপি বা ২০০০ কোটি ডলার ছাড়াও অনেক বড়। ভারতে ভিক্ষাবৃত্তি একটি শিল্পের মতো উন্নত হচ্ছে, এবং এতে এসব ভিক্ষুকগুলির একটি অংশ রয়েছে, যারা লক্ষ লক্ষ রুপি বা কোটি কোটি ডলার অর্জন করেছেন।

ভারতে ভিক্ষাবৃত্তি প্রতিরোধিত। সরকার তৎকালীন বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়েছে, যেগুলির মধ্যে জরিমানা, ভিক্ষুকদের গ্রেফতার করা এবং তাদের পুনর্বাসন করা রয়েছে। তবে, এই ব্যবস্থার ব্যবহার খুব কম হয়েছে। অনেকে কাজে পাশে থাকতে নির্বাচন করেছেন ভিক্ষা নেওয়ার বদলে। এই কারণে অনেক লোক এখন ভিক্ষাবৃত্তি হিসেবে পেশা নিয়েছেন। এই ভিক্ষুদের মধ্যে কেউ একটি চক্র তৈরি করেছেন এবং তারা অন্য ভিক্ষুদের প্রতি উদার। অবশ্য এই মানুষগুলি সময়ে সময়ে তাদের অর্থ, খাদ্য এবং পোশাক দেওয়ার মধ্যে তাদের সাহায্য করেন। এখানে দেখা যায় কীভাবে ভিক্ষাবৃত্তি একটি আকর্ষণীয় এবং লাভজনক পেশা হতে পারে, তার একটি উদাহরণ হলো ভারত জৈন। এর মতোই কিছু ভিক্ষুক হতে পারে মিলিয়নায়। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ভিক্ষু। এর জন্য তিনি গর্বিত।

Related posts

জন সিনা কেন অস্কার মঞ্চে উলঙ্গ হলেন!

Megh Bristy

বছরে দুই কোটি টাকা আয় হাঁসের পালক রপ্তানি করে

Megh Bristy

বাহারি রঙের ঘুড়িতে ছেয়ে গেছে পুরান ঢাকার আকাশ।

Megh Bristy

Leave a Comment