সর্বশেষ

এমন এক দেশ যেখানে লিভ-ইন আইনত বৈধ

এমন এক দেশ যেখানে লিভ-ইন আইনত বৈধ

এমন এক দেশ যেখানে লিভ-ইন আইনত বৈধ

না জানিয়ে লিভ-ইন করলেই চোখ রাঙিয়ে তেড়ে আসবে পুলিশ। ধরা পড়লেই মোটা টাকা ফাইন, ৬ মাসের জেল। ভালবাসার মানুষের সঙ্গে এক ছাদের তলায় থাকবেন কিনা, তার জন্য সরকারি অনুমতি নিতেই হবে। এ তো গেল উত্তরাখণ্ডের আইন। এ দেশের অনেক জায়গাতেও এমন প্রেমিক যুগলকে ইতি-উতি দেখলে নানা কটূক্তি, অশালীন মন্তব্য ভেসে আসে। কিন্তু এমন এক দেশ আছে যেখানে লিভ-ইন আইনত বৈধ শুধু নয়, কমবয়সিদের প্রেম-প্রেম ইচ্ছাপূরণের জন্য বাবা-মাই রীতিমতো ভালবেসে ছোট্ট কুটির বানিয়ে দেয়। অর্থাৎ সকলের চোখের সামনেই মাথা উঁচু করে যত খুশি প্রেম করো, একত্রবাসেও নেই আপত্তি।

প্রেম-যৌনতার অবাধ স্বাধীনতা এ দেশে। বিয়ের আগে পছন্দের পুরুষকে জেনেবুঝে নিতে অভিভাবকরাই অনুমতি দেয় লিভ-ইনের। দিনকয়েক একসঙ্গে থেকে প্রেম জমে উঠলে তবেই বিয়ে। আর লিভ-ইনে যদি ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট হয়, প্রেমিককে মনে না ধরে, তাহলেই বাতিল। আবার নতুন করে কুঁড়ে ঘর বেঁধে ছেলেমেয়ের জন্য লিভ-ইনের বন্দোবস্ত করে দেবেন অভিভাবকরাই।

কম্বোডিয়ার উত্তর-পূর্বের একটি দ্বীপে ক্রেয়াংদের বাস। ক্রেয়াংরা হল আদিবাসী গোষ্ঠী। ক্রেয়াং উপজাতিরা মনে করে, সংসার পাততে গেলে নিখাদ ভালবাসা দরকার। প্রেম হবে একেবারে আঁটোসাঁটো। “প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরে পড়ে কে জানে”.. ধরা যদিও বা পড়ে তাহলে যাচাই করে নেওয়াই দস্তুর। এটাই মনে করে ক্রেয়াংরা। শহুরে আধুনিক ছেলেমেয়েরা এখন যেমন আগে যাচাই, পরে বিয়ে কনসেপ্টে বিশ্বাসী, ক্রেয়ারং কিন্তু বহুদিন আগে থেকেই এই ফর্মুলার প্রয়োগ করে আসছে। তফাৎটা হল, এখানে লিভ-ইন খুল্লমখুল্লা ততটা মান্যতা পায় না। সবটাই চুপিচুপি বা আড়ালে-আবডালে। কিন্তু কম্বোডিয়ায় লিভ-ইন শুধু বৈধই নয়, জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপও।

মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক পরই তার বিয়ের চেষ্টা শুরু হয়। পছন্দের পুরুষ বেছে নেওয়ার অধিকারও পায় মেয়েটি। প্রেম যদি হয়েই যায় তাহলেই ভালবাসার-কুঁড়ে বেঁধে দেবেন পরিবারের লোকজন। ক্রেয়াংদের ছোট্ট গ্রামটি জলাশয়ে ঘেরা। সেই জলাশয়ে উপরেই তৈরি করা হয় কুঁড়ে ঘর। যার নাম লাভ হাট। নিজে হাতে ছেলে-মেয়েদের জন্য ছোট্ট এই মাটির ঘর তৈরি করেন মা-বাবা। যাতে তাঁদের সন্তান সঙ্গীর সঙ্গে নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারেন। মাটির তৈরি ছোট্ট কুঁড়ে। দুজনের থাকার মতো জায়গা। যখন তখন কুঁড়েতে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার অনুমতি আছে। প্রেমিক-প্রেমিকা যত রোম্যান্টিক হবে, ততই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন অভিভাবকরা।

পর্যটকরা যারা কম্বোডিয়ার এই দ্বীপে ঘুরে এসেছেন, তাঁরা বলেন, ছোট্ট দ্বীপের চারদিকে লাভ-হাট রয়েছে। দ্বীপে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি। সন্ধে হলেই দ্বীপের আলো জ্বলে ঘরে ঘরে। এই দ্বীপের আকাশ-বাতাসে নাকি প্রেমের হাওয়া। মধুযামিনীতে মিলন হয় প্রেমিক-প্রেমিকার। গোটা গ্রাম যেন প্রেমের দোলায় মেতে ওঠে। ঘরে ঘরে আনন্দ, হাসি। সূর্যাস্তের পরে কমলা রোদ ফিনকি দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দ্বীপে। এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। এখানে প্রেমে বাধা দেওয়ার কেউ নেই, বরং প্রেমই জীবনের মূল মন্ত্র। ভালবাসা দিয়েই একজন অপরজনকে চেনে।এই গ্রামে কোনওদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। যৌন নির্যাতন শব্দটাই অচেনা। কোনও মেয়েকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় না।

কোনও মেয়ের শরীর নিয়ে কুৎসিত মন্তব্যও করা হয় না। কারণ নারী শরীরকে সম্মান দিয়ে ভালবাসা দিয়ে গ্রহণ করেন এখানকার পুরুষরা। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাও কিন্তু নিয়ম মেনেই হয়। এখানে পরকীয়া বা বিশ্বাসভঙ্গের মতো ঘটনা ঘটে না। যৌন অপরাধও ঘটে না। নারী ও পুরুষ একে অপরকে সম্মান করেন। গ্রামের মেয়েরা এখানে সুরক্ষিত, নিরাপদ জীবন কাটায়। টিমটিমে মোমবাতির আলো আর দ্বীপের আলোয় রাতের আঁধার কেটে গোটা দ্বীপটাই জ্বলজ্বল করে ওঠে। প্রেমিক-প্রেমিকারা যেন বলে ওঠে, “মিলনরাতি পোহালো, বাতি নেভার বেলা এল/ ফুলের পালা ফুরালে ডালা উজাড় করে ফেলো।”

আরো পড়ুন: নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির ইতিবাচকভাবে সাড়া দিয়েছে হামাস

Related posts

Havells-Bajaj-এর গিজ়ার কিনুন প্রায় অর্ধেক দামে শীত পড়ার আগেই

Rubaiya Tasnim

মালাইকাকে দেখে রাতের ঘুম ভালো হবে ফারিয়ার

Suborna Islam

হৃত্বিক-সুজ়ানের বিয়ে ভাঙার আসল কারণ কি জানেন ?

Megh Bristy

Leave a Comment